Ad Code

Ticker

6/recent/ticker-posts

গল্প- জ্বীনের খাটিয়া । লেখক- রিয়াজ রাজ ( পর্ব- ০৮ এবং ০৯ ও শেষ)

 


গল্প- #জ্বীনের_খাটিয়া ( পর্ব-০৮)

লেখক- #রিয়াজ_রাজ
------------------------------------
এটি করার ৫ সেকেন্ডের মধ্যে রমিজ মিয়া দেখেন,পুরো রাস্তা ফাঁকা। মানে একটা কাকপক্ষীও নেই। রমিজ মিয়া এই নিয়ম সম্মন্ধে জানলেও,এইটা জানেনা তারপর কি করতে হবে।।বৃত্তের মাঝেই বসে থাকা লাগবে? নাকি বাড়িতে চলে যেতে হবে। উপায় না পেয়ে ভয়ে কাঁপছেন তিনি।
কিন্তু মূল কথা হচ্ছে এখান থেকে ভেগে যাওয়া। এই স্থানটাই হচ্ছে ভয়ানক। লুঙ্গি আর পরনে না পড়ে,হাতে নিয়েই রমিজ মিয়া এক দৌড় লাগান বাড়ির দিকে। শীতের কুয়াশা ভেদ করে উনার গতিবেগ প্রচুর ছিলো। কুয়াশার তরল পানীয়জল মুখে লেপ্টে যায়। কিন্তু থেমে থাকার নাম মুখে নেই। যত জোরে পারলো,দৌড় দিয়েই গেলো।
দৌড়াতে দৌড়াতে শেষে এসে তিনি বাড়িতে উপস্থিত হলেন। দরজার সামনে এসে " রোকেয়া" বলে এক চিৎকার দেন।ভিতর থেকে সবাই দৌড়ে এসে দেখলেন,রমিজ মিয়া উলঙ্গ অবস্থায় চিত হয়ে শুয়ে আছে। অর্থাৎ উনার পিঠের সাইডটা স্পষ্ট দেখা যায়। কাজের লোক জাহাঙ্গীর মিয়া দৌড়ে এসে রমিজ মিয়ার লুঙ্গিটা ঠিক করে দেন। এরপর সবাই মিলে ধরাধরি করে উনাকে নিয়ে যান রুমে।
রমিজ মিয়ার গায়ে আবার প্রচুর জ্বর। জ্ঞান হারিয়ে শুয়ে থাকলেও,জ্বরে গা কেঁপে যাচ্ছে। রমিজ মিয়ার স্ত্রী রমিজ মিয়ার কপালে জলপটি লাগিয়ে দেন। জাহাঙ্গীর মিয়াও কিছুটা আঁচ করতে পারছেন। কারণ বাড়িতে রোকেয়া বেগম প্রায় এদের সাথে ওসব বলতো। ব্যাপারটা স্পষ্ট সবার কাছে। জাহাঙ্গীর মিয়া দেরি না করে,চলে গেলেন ইমাম সাহেবকে ডাকতে।
অর্ধেক রাস্তায় আসতেই জাহাঙ্গীর মিয়ার মনে হলো,একজন অবয়বকে দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ যে পথে জাহাঙ্গীর মিয়া যাচ্ছেন,সেই পথ দিয়ে কেও তার দিকেই আসতেছে। কুয়াশার জন্য তেমন বুঝা না গেলেও,জাহাঙ্গীর মিয়া অবয়বকে দেখে যাচ্ছে। মনে ঢুকে যায় ভয়, এইটা যদি জ্বীন হয়?
কিন্তু জাহাঙ্গীর মিয়ার ভয়কে কাটিয়ে উপস্থিত হলেন ইমাম সাহেব। অর্থাৎ ইমাম সাহেব নিজেই রমিজ মিয়ার বাড়ির দিকে যাচ্ছেন। জাহাঙ্গীর মিয়া ইমাম সাহেবকে দেখেই বললেন," ব্যাপার কি ইমাম সাহেব। কোথায় যাচ্ছেন"। ইমাম সাহেব জাহাঙ্গীর সাহেবের দিকে তাকিয়ে একটু সন্দেহভাজন চোখে তাকিয়ে বললেন," আপনি কোথায় যাচ্ছেন। আমি তো রমিজ মিয়ার কাছেই যাচ্ছিলাম"। কাজের লোক ইমাম সাহেবের কথা শুনে বলে," আমিও আপনার কাছে যাচ্ছিলাম। সাহেবের অবস্থা খারাপ"। কাজের লোকের কথা শুনে ইমাম সাহেব ধীর স্বরে বলল," আগেই জানতাম। এমন কিছু হবার ভয় ছিলো,আর হয়েও গেছে। চলুন,রমিজ মিয়ার কাছে যাওয়া যাক"।
ইমাম সাহেব আর কাজের লোক চলে যান রমিজ মিয়ার বাসায়। বাড়ি এসে যখন ইমাম সাহেব রমিজ মিয়ার কাছে বসলেন। তখনি রমিজ মিয়ার জ্বর বেড়ে যায় দ্বিগুণ। ইমাম সাহেব রমিজ মিয়ার উপর কিছু একটা পড়ে ফুঁ দেন। তার কিছুক্ষণ পর জ্বর ভালো না হলেও,রমিজ মিয়ার জ্ঞান ফিরে আসে। অস্পষ্ট দৃশ্যান্তর হয়ে রমিজ মিয়া চোখ খোলেন। চারপাশে ঝাপসা,যেনো শরীরটা বহু ক্লান্ত। ইমাম সাহেব রমিজ মিয়াকে বলে," আপনার শরীর তেমন ভালো না। আর আপনাকে একটা সংবাদ দিতে এসেছি আমি"। ইমাম সাহেবের চেহারা স্পষ্ট না দেখলেও,রমিজ মিয়া ইমাম সাহেবের কন্ঠ স্পষ্ট শুনতে পান। মুখ খুলে অস্পষ্ট স্বরে রমিজ মিয়া বললেন," কিসের সংবাদ"।ইমাম সাহেব এইবার রমিজ মিয়াকে বলতে লাগলেন," গত ১ বছর আগে আপনার সাথে কি হয়েছিলো সবটাই তো জানি আমি। এবং আপনাকে মুক্ত করার জন্য যা যা করার দরকার ছিলো। সবি করেছিলাম। এতে আমার কি কি সমস্যা হয়েছে,সেটাও আপনি জানেন। তাছাড়া সিদ্দিক কবিরাজের পরিণতি কি হলো,ওটাও জানেন। কিন্তু একটা বিষয় আমি গোপন রেখেছিলাম। কেনো রেখেছি সেটাও বলি। আপনার এই সমস্যা সমাধান আমি না করতে পারলেও,সঠিক কেও না কেও তো আছে। তারা পারবে। এ ভেবে আমি খোঁজ করে যাচ্ছিলাম। আপনার প্রথম বাচ্চাকে যখন তারা নিয়ে যায়। তখন হয়তো আপনি ভেবেছেন সব ঠিক হয়ে যাবে। তবে সব ঠিক হয়নি,সেটা আমি জানি। যতদিন না ঐ জ্বীনদের ফাঁদে অন্য কেও পা দিবে। মানে খাটিয়া সহ নিয়ে গিয়ে কবর খুঁড়ে পুরস্কার না নিবে। ততদিন এই জ্বীন আপনাদের উপর নজর রাখবে। অবশেষে আমি খোঁজ পেয়েছি একজনের। আর এসে দেখি,আপনি আগে থেকেই আহত"।
ইমাম সাহেবের কথা শুনে রমিজ মিয়া আবার বললেন,' নাম কি সেই তান্ত্রিকের "। ইমাম সাহেব মুচকি হেসে বললেন," তান্ত্রিক আবির"। ( তান্ত্রিক আবিরকে আপনারা চিনেন নিশ্চয়ই। যারা চিনেন না,তারা এম্বুলেন্স রহস্য গল্পের সকল সিরিজ পড়ে নিবেন। যদি কেও খুঁজে না পান,তবে Riaz Raj Official পেজে মেসেজ দিন। আপনাদের আমি সকল গল্পের লিংক দিয়ে দিবো)
ইমাম সাহেবের কথা শুনে রমিজ মিয়া আবার চোখ বন্ধ করতে করতে বললেন," ঠিক আছে। সেই কবিরাজকে আগামীকাল সকালে আসতে বলুন। যত টাকা লাগে আমি দিবো। কিন্তু জ্বীনদের এই যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে চাই"।
ইমাম সাহেব চলে গেলেন বাড়িতে। রমিজ মিয়া শান্ত হয়ে শুয়ে আছেন। রোকেয়া বেগম উনার মতো করে সেবাযত্ন চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাত-২ টা।
ঘুমের মাঝে রমিজ মিয়ার স্বপ্নে সেই জ্বীন আসে। কালো কুচকুচে চেহারা,আর চোখ দুটি ধবধবে সাদা। রমিজ মিয়ার উদ্দেশ্যে সে গম্ভীর স্বরে বলতে থাকে,' তোর আরো একটা বাচ্চা লাগবে আমার। এরপর আমি তোকে ছেড়ে দিবো। তোকে বিরক্ত করবো না। তোর স্ত্রী এখন গর্ভবতী। কালকের মধ্যেই জানতে পারবি এইটা। এই বাচ্চাটাকে জন্ম দেওয়ার ২১ দিন পর বারান্দায় রেখে যাবি।আমরা নিয়ে যাবো। তবে রাত ১২ টার পর রাখবি। আর একটা কথা,ইমাম সাহেবের জানাযা পড়ে আসিস সকালে"।
এতটুকু দেখেই রমিজ মিয়া লাফ দিয়ে উঠে বসে। শরীর থরথর করে কাঁপছে। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় দ্বিগুণ। জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে চেয়েও,বুকে আটকে যাচ্ছে সেটি।রোকেয়া বেগম পাশেই বসা ছিলো। যদিও সেবা করতে করতে তিনি ঘুমিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু রমিজ মিয়ার ছটফটানি অনুভব করতে পেরে তিনিও উঠে যান। রমিজ মিয়া না পারছে কথা বলতে,আর না পারে কিছু বুঝাতে। বুক ধরে শ্বাস নিতে নিতে তিনি আবার জ্ঞান হারায়।
ভোর রাতে রমিজ মিয়া আবার উঠেন লাফ দিয়ে। এইবার দেখতে পায়,চারপাশে লোকজনের ভিড়। রমিজ মিয়ার অবস্থা শুনে পুরো এলাকার মানুষ চলে আসছে। রমিজ মিয়া সেসবের তোয়াক্কা না করে বিছানা থেকে উঠে দৌড় দেন। এবং একবার জোরে চিৎকার দিয়ে বলে," ইমাম সাহেবের বাসায় আসুন সবাই"।
রমিজ মিয়ার পিছন পিছন পুরো এলাকার মানুষ দৌড় লাগায়। কারো হাতে লাইট আবার কারো হাতে হারিকেন। দিক-বেদিক হয়ে সবার দৌড় শুরু হয় ইমাম সাহেবের বাড়িতে।কিছুক্ষণ বাদে যখন সবাই ইমাম সাহেবের উঠোনে যায়। তখন যে দৃশ্য দেখে,এটি ছিলো অনেক বেদনাহত।
ইমাম সাহেবের বাড়ির সামনে একটা বিশাল আমগাছ রয়েছে। সেই আম গাছের সাথে ফাঁসি দিয়ে মারা যান ইমাম সাহেব। সবাই এটি না জানলেও,রমিজ মিয়া জানেন ইমাম সাহেব ফাঁসি দেয়নি। তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। ইমাম সাহেবের লাশ ঝুলে থাকতে শুনে এলাকার মেম্বার সহ অনেকে চলে আসে। পুলিশে কল দিতে চাইলে রমিজ মিয়া বলেন," লাভ নেই। কোথাও কল দিবেন না কেও।এইটা সেই জ্বীনের কাজ। সবাই ধরে লাশ নামান। আমরা জানাযা পড়ে কবর দিবো"।
রমিজ মিয়ার কথা ফেলে দেওয়ার সাহস কারো নেই। ইমাম সাহেবের লাশ নামিয়ে নেয় এলাকাবাসী। অন্য মসজিদের এক ইমাম এসে জানাযা সম্পূর্ণ করলে,দাপন করা হয় ইমাম সাহেবকে।
বাড়ি এসে রমিজ মিয়া শুনতে পায়,তার স্ত্রী বমি করতে করতে জ্ঞান হারায়। রমিজ মিয়া জাহাঙ্গীর মিয়াকে বলে," ও গর্ভবতী। ডাক্তার বাসায় নিয়ে আসেন। সামনে খারাপ কিছু হবে হয়তো"। এ বলে রমিজ মিয়া রুমে চলে যান। আর একভাঁড় চিন্তা নিয়ে ভাবতে থাকে। ইমাম সাহেব তো মারা গেলেন। এখন এই তান্ত্রিক আবিরকে কোথায় খুঁজবেন তিনি। ( তান্ত্রিক আবিরকে রমিজ মিয়া না পেলেও,আপনি কিভাবে পাবেন।তা মনে আছে তো? যারা তান্ত্রিক আবিরের ব্যাপারে জানতে চান। তারা শুরু করে দিন)

গল্প- #জ্বীনের_খাটিয়া ( পর্ব-০৯)
লেখক- #রিয়াজ_রাজ

বাড়ি এসে রমিজ মিয়া শুনতে পায়,তার স্ত্রী বমি করতে করতে জ্ঞান হারায়। রমিজ মিয়া জাহাঙ্গীর মিয়াকে বলে," ও গর্ভবতী। ডাক্তার বাসায় নিয়ে আসেন। সামনে খারাপ কিছু হবে হয়তো"। এ বলে রমিজ মিয়া রুমে চলে যান। আর একভাঁড় চিন্তা নিয়ে ভাবতে থাকে। ইমাম সাহেব তো মারা গেলেন। এখন এই তান্ত্রিক আবিরকে কোথায় খুঁজবেন তিনি।
সময় তো আর থেমে থাকেনা। মসজিদে নতুন ইমাম নিয়োগ করা হয়। যেটির মূল দায়িত্বে রমিজ মিয়া রয়েছেন। যদিও এই খ্যাতিমান নাম পাওয়ার আগে তিনি ছিলেন কৃষক। কিন্তু টাকা হবার পর থেকে এলাকায় বেশ নাম ডাক কামিয়ে নিলো। চেয়ারম্যান হতেও চেয়েছিলো,তবে বাচ্চা মরে যাবার পর থেকে সেই ইচ্ছেকে আর প্রাধান্য দেন নি তিনি। মদজিদের নতুন ইমাম সিলেক্ট করে তিনি বাজারে চলে যান। ইমাম সাহেবের জন্য যদিও মন খারাপ রয়েছে। এদিকে নতুন ঝামেলাও এসে বসেছে। স্ত্রী রোকেয়া বেগম তো আবারো প্রেগন্যান্ট হলো। এই বাচ্চাকেও হারাতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে কে বা সুস্থ- সাবলীল থাকে। দোকানে বসে যখন তিনি এসব নিয়ে ভেবে যাচ্ছিলেন। তখনি গ্রামের একটা লোক দৌড়ে এসে বললেন," রমিজ সাহেব রমিজ সাহেব। তাড়াতাড়ি আসেন। এলাকায় তান্ত্রিক আবির সাহেব আইছে"। লোকটার কথা শুনে রমিজ এক লাফ মেরে উঠে দাঁড়ায়। কারখানার কর্মীদের কাজে রেখে বেরিয়ে যায় বাহিরে। যদিও ব্যাপারটা অবিশ্বাস্য লাগছে। বাকিটা ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যাবে।
রমিজ মিয়াকে লোকটা নিয়ে আসে ইমাম সাহেবের বাসায়। ইমাম সাহেবের বাড়ির চারপাশে অনেক লোকের ভিড়। রমিজ মিয়াকে দেখে সবাই রাস্তা পরিষ্কার করে দেয়। রমিজ মিয়া লোকদের ভিড় কাটিয়ে উঠোনে এসে দেখে,একজন যুবক দাঁড়িয়ে আছে।হাতে তসবিহ, গায়ে একটা লম্বা কালো জুব্বা। রমিজ মিয়া এগিয়ে এসে বলে," আপনিই তান্ত্রিক আবির?"। আবির উনার কথা শুনে মাথা নাড়িয়ে বলে," জ্বী। গতকাল রাতে ইমাম সাহেব আমাকে একটা ভিডিও ফুটেজ দেন। আর সেখানে বলেছেন একটা জ্বীনের ব্যাপারে। আবার রমিজ নামের একটা লোকের ব্যাপারেও বললেন। কিন্তু এখন এসে শুনছি উনি মারা গেছেন"। রমিজ মিয়া আবিরের কথা শুনে বললেন," তারমানে ইমাম সাহেব কাল রাতে নিজের বয়ান ভিডিও করে আপনাকে পাঠিয়ে দিয়েছিলো। যাইহোক, আমিই রমিজ মিয়া। আসুন আমার বাড়িতে। সবটা বলতেছি"।
রমিজ মিয়া আবিরকে নিয়ে চলে গেলেন নিজের বাসায়। আবিরের সাথে আবিরের দুই বন্ধুও এসেছে।।ওরা গাড়িতে। রমিজ মিয়া লোক পাঠিয়ে রোহান আর রাহুলকেও বাসায় নিয়ে আসে। সময় হয়ে যায় সন্ধ্যা।রমিজ মিয়া সহ সবাই ড্রইংরুমে বসেছে। কাজের লোক জাহাঙ্গীর মিয়া চা বানিয়ে দেয় সবাইকে। আবির চায়ে চুমুক দিয়ে জাহাঙ্গীর সাহেবের প্রশংসা করতে ভুলেন নি।এরপর কথোপকথন শুরু করে রমিজ মিয়ার সাথে।
- তো রমিজ সাহেব। শুরু থেকে বলুন।ইমাম সাহেব শুধু বলেছিলেন একটা জ্বীনের টর্চার চলছে। তারপর তিনি ঠিকানা দিয়েছেন। ঘটনা শুরু কোথা থেকে।
- একট জ্বীনের খাটিয়া থেকে।
- জ্বীনের খাটিয়া? মানে যে জ্বীন খাটিয়াতে থাকে।আর কোনো মানুষের দ্বারা নিজের লাশ দাপন করায়। ওরা?
- হ্যাঁ,আপনি তো দেখছি চিনেন তাদের।
- চিনবোনা কেনো। এ অব্দি ২ বার তাদের সাথে লড়েছি আমি। যদি আমি ভুল না থাকি। তবে আপনার এই সম্পদ ওদেরই দেওয়া,রাইট?
- হ্যাঁ।
- চিন্তা করবেন না। ওদের সাথে খুব ভালো পরিচয় আমার। কিন্তু একটু ত্যাড়া জ্বীন ওটা। মানে সে মিথ্যা কথা বেশি বলে। ওর কোনো কথাতেই সত্যতা নেই। বন্দি করতে গেলে পালিয়ে যায়।।এই অব্দি তাকে বন্দি করতে পারিনি।।কিন্তু আপনাদের ছেড়ে চলে যাবে,এইটা নিশ্চিত।
- তো আর দেরি কিসের তান্ত্রিক সাহেব। শুরু করুন? যা টাকা লাগে আমি দিবো।
- এখন হবেনা। ওদের এইভাবে ডাকা যায়না। সে আপনার স্বপ্নে আসে তাইনা?
- হুম। আর প্রতিবারই একটা না একটা বিপদের ইঙ্গিত দিয়ে যায়।
- ঠিক আছে।আজ আপনার রুমে আমরাও থাকবো। আপনি ঘুমাবেন। বাকিটা আমি দেখছি।
- ঠিক আছে।
- কিন্তু আমার কিছু জিনিষ লাগবে। ওগুলাও এনে রাখুন।
- হ্যাঁ বলুন,কি কি লাগবে।
- ৫ টা কাচা ফুল।যেকোনো ফুল হলেও চলবে। তবে কাচা হতে হবে। ২ টা কাচা মরিচ,একটা গ্যাসলাইট, আগরবাতি আর একটা নিম গাছের ডাল। পাতা সহ,ছোট একটা ডাল।
- আচ্ছা। আমি এক্ষুনি ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।
- হুম।
কথোপকথন শেষে রমিজ মিয়া আবিরদের একটা রুমে ব্যাগ রাখতে দেয়। রাহুল ক্যামেরা বের করে সেট করে যাচ্ছে। রাহুল জাহাঙ্গীর মিয়ার সাথে আসবাবপত্র গুছিয়ে নিচ্ছে।আবির বসে বসে সেই বইটি পড়ছে। যা রিয়াজ দিয়ে দিয়েছিলো।
রাত ১১ টা।
খাবার টেবিলে বসে সবাই খাওয়া-দাওয়া করে নেয়। খাবার শেষে রোকেয়া বেগমকে অন্য একটা রুমে নিয়ে যায় কাজের মহিলারা। যেহেতু উনি গর্ভবাসে আছেন। তাই রুকাইয়ার কাজে উনার থাকাটা বিপদজনক। রমিজ মিয়া চলে যান রুমে।রাহুল ক্যামেরা নিয়ে এসে,রুমের এক কোনায় সেট করে দিলেন। রোহান বক্স( ব্যাগ) নিয়ে রাহুলের পাশে দাঁড়ানো। রমিজ মিয়া বিছানায় শুয়ে যেতেই আবির উনার কাছে আসেন। এরপর রমিজ মিয়ার মাথায় হাত রেখে আবির আয়াত উচ্চারণ করতে লাগলেন। আবিরের হাতে থাকা তসবিহটা জ্বলজ্বল করতে লাগলো। এর পিছনেও বিশেষ কারণ রয়েছে। রিয়াজের দেওয়া বই থেকে এই শক্তি। ( এই বই সম্মন্ধে জানতে আপনাদের পড়তে হবে এম্বুলেন্স রহস্য গল্পের সিরিজ। যারা পড়েন নি,তারা Riaz Raj Official নামের পেজটা চেক দিন। এবং যারা খুঁজে পাবেন না,তারা ঐ পেজে একটা মেসেজ দিন। আমি লিংক দিয়ে দিবো আপনাদের) বইয়ের মধ্যে থাকা আয়াতে আবির নতুন অনেক কিছু শিখেছে। তার মধ্যে এটিও একটা। রমিজ মিয়ার মাথায় হাত রেখে আবির উচ্চারণ করতে থাকে আয়াত। এবং ধীরে ধীরে মাথা থেকে হাতটা নিচের দিকে নামায়। মানে রমিজ মিয়ার চোখের দিকে নিয়ে আসে। রমিজ মিয়ার চোখ বন্ধ। আবির ধীরে ধীরে এইবার হাতটা নিচের দিকে নিয়ে আসে। অর্থাৎ ঠোঁট অব্দি।
এরপর দেখা যায়,রমিজ মিয়া পুরোপুরি ঘুমিয়ে গিয়েছে। আবির হাতে থাকা তসবিহটা রমিজ মিয়ার মাথার কাছে নিয়ে বলে, " আপনি এখন ঘুমে রয়েছেন। কিন্তু আপনার কান খোলা। আপনার জবান খোলা। আপনি আমাদের শুনতে পাচ্ছেন?"। আবিরের কথায় রমিজ মিয়া ঘুমের মধ্যে বলল, " হ্যাঁ,আমি আপনাকে শুনতে পাচ্ছি। কিন্তু আপনি কোথায়"। আবির মুচকি হেসে বলে,' আপনি আপনার চারপাশে কি দেখতে পাচ্ছেন"। আবিরের প্রশ্নে রমিজ মিয়া অস্পষ্ট শব্দে বলতে থাকে," আমি একটা জঙ্গলে আছি। চারপাশে অন্ধকার। হালকা হালকা বুঝা যাচ্ছে শুধু"। আবির এইবার রমিজ মিয়ার মাথার সাইড থেকে তসবিহ সরিয়ে বলে,' আপনি ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকুন। কোথাও যাবেন না। যদি কাওকে আপনি দেখতেও পান,তবুও কোথাও যাবেন না"। এতটুকু বলে আবির দূরে সরে আসে। এরপর তসবিহটা উপরের দিকে উঠিয়ে আবির বলতে শুরু করে," বিসমিল্লাহি আরক্বিক মিন কুল্লি শাইয়িন য়ুযিক। ওয়া মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনিন হাসিদিন; আল্লাহু ইয়াশফিক। বিসমিল্লাহি আরক্বিক।” (অর্থ- আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি। সকল কষ্টদায়ক বিষয় থেকে। প্রত্যেক আত্মা ও ঈর্ষাপরায়ণ চক্ষুর অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য করুন। আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি।)( এই আয়াতটি ভুল কোনো আয়াত না। প্রয়োজনে আপনারাও এই আয়াত ব্যবহার করতে পারেন)
আবিরের মুখ থেকে এই আয়াত শুনে রমিজ কর্কশ স্বরে বলল," তুই কেনো বার বার আমার পথের বাধা হয়ে দাঁড়াস। চলে যা তুই। নয়তো আমি এইবার তোকে ছাড়বো না"। রমিজ মিয়া ঘুমের মধ্যেই বলে যাচ্ছে এইসব। আবির বুঝতে পারে,স্বপ্নে সেই জ্বীন রমিজ মিয়ার দেহে ভর করেছে। আবির মুচকি হাসি দিয়ে বলে, " রুকাইয়ার জীবনে আমার সবচেয়ে ক্লোজ জ্বীন তুই। তোকে এখন আঘাত করতেও তো আমার মায়া হচ্ছে। কিন্তু সমস্যা তো অন্য জায়গায়। এই রমিজ মিয়ার বাচ্চাকে মেরে ফেললি। এখন আবার আরেকজনকে নিতে চাচ্ছিস। বাচ্চা কি তোর জন্য জন্ম দেয় উনি?"। আবিরের কথা শুনে রমিজ মিয়া আবারো কর্কশ স্বরে বলে, " আর কাওকে নিবো না। আমাকে ছেড়ে দে"। রমিজ মিয়ার কথা শুনে আবির হেসে হেসে বলে, " তুই আমাকে জবান দিচ্ছিস? তোকে আমি হাড়ে হাড়ে চিনি। এখন সোজাসুজি বল সব। চলে যাবি? নাকি বন্দি করবো"। আবিরের কথায় রমিজ মিয়া আবার বলে," চলে যাবো।কদিন পর যাবো। এখন আমার ভালো লাগছেনা"। আবির এইবার ক্ষিপ্ত হয়ে বলে," কেনো,ওর শরীর কি তোর বাপ-দাদার সম্পত্তি? এই মুহুর্তে তুই চলে যাবি। অন্য কাওকেও ধরতে পারবিনা।নয়তো তোর সাথে যদি আমার আবার কোথাও দেখা হয়ে যায়। তাহলে হত্যা করে দিবো কিন্তু"। আবিরের কথায় রমিজ মিয়া বলে,' ঠিক আছে। চলে যাচ্ছি"। এইটুকু বলে রমিজ মিয়া শান্ত হয়ে যায়।
আবির রোহানের থেকে কাচা ফুলটা নেয়। এরপর সেই ফুল রমিজ মিয়ার বুকের উপর রাখেন। তারপর আবার এসে কাচা মরিচগুলা হাতে নিয়ে,দিয়াশলাই দিয়ে পুড়তে শুরু করে। মুখে আয়াত উচ্চারণ, আর হাতে মরিচ পোড়ানো। মরিচ পুরোপুরি জ্বলে কালো হয়ে গেলে,আবির সেই মরিচ রমিজ মিয়ার নাকে ধরে। সাথে সাথে রমিজ মিয়া কর্কশ স্বরে জোরে এক চিৎকার মেরে বলে," আরে কি করছিস তুই। ছাড় আমাকে। মরে যাচ্ছি আমি। সহ্য হচ্ছেনা। যাচ্ছি আমি যাচ্ছি"। রমিজ মিয়ার ছটফটানি দেখে আবির হেসে হেসে বলে, ' আমি জানতাম তুই ওর শরীরেই লুকিয়ে থাকবি। তুই যে কতবড় ঠকবাজ।সেটি আমি ভালো করেই জানি"। এদিকে মরিচ পোড়ার গন্ধে রমিজ মিয়া ধড়ফড় শুরু করে। ছাড়তে বলে, কিন্তু আবির নাক থেকে মরিচ সরায় না। পিছনে তাকিয়ে আবির রোহানকে ইঙ্গিত দিতেই,রোহান নিম গাছের ডাল এনে রমিজ মিয়ার পায়ে আঘাত শুরু করে। নিম গাছের ডালের আঘাতে রমিজ মিয়ার যেনো রুহ বের হয়ে যাচ্ছে। এদিকে রাহুল ক্যামেরা অন রেখে আগরবাতি জ্বালিয়ে দেয়। মোটকথা রমিজ মিয়ার ভিতরে থাকা জ্বীনকে এক সাথে কয়েকটা শাস্তি দিয়ে যাচ্ছে।
অনেক্ষন ছটফট করার পর আচমকা রমিজ মিয়া শান্ত হয়ে যায়। সুযোগে আবির সেই কাচা ফুল রমিজ মিয়ার কপালে স্পর্শ করায়। সাথে সাথে কাচা ফুলটা শুকিয়ে, কুচকুচে কালো হয়ে যায়। আবির বলে," তারমানে তুই এখনো যাস নি"।
কথাটা বলে আবির আবার কাচা মরিচ উনার নাকে ধরে। রোহান নিম পাতার ডাল দিয়ে পেটানো শুরু করে। রাহুল আরেকটা ফুল এনে রমিজ মিয়ার বুকের উপর রাখে। রমিজ শুরু করে আবার ধড়ফড়।
দরজার সামনে দাঁড়িয়ে জাহাঙ্গীর মিয়া সহ অনেকে দেখে যাচ্ছে এসব। রমিজ মিয়া এতো স্পিডে ধড়ফড় করছে,যেনো শরীরের প্রতিটা লোম পর্যন্ত কম্পন সৃষ্টি করেছে। এইভাবে আরো কিছু সময় কেটে যাবার পর,স্থগিত হয়ে যান রমিজ মিয়া। আবির বরাবরের মতো আবারো বুক থেকে ফুল নিয়ে রমিজ মিয়ার কপালে ধরলেন। কিন্তু এইবার আর ফুল শুকায়নি। অর্থাৎ জ্বীন পালিয়ে গেছে। কিন্তু আবির হাল ছাড়েনি। কপালে ফুলটা ধরে রেখে রাহুল এবং রোহানকে ইশারা করলো। রাহুল আর রোহানের সাথে আবিরও উচ্চারণ করতে থাকে," বিসমিল্লাহি আরক্বিক মিন কুল্লি শাইয়িন য়ুযিক। ওয়া মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনিন হাসিদিন; আল্লাহু ইয়াশফিক। বিসমিল্লাহি আরক্বিক"।
একবার না ২বার না। বার বার যখন তারা এই আয়াত উচ্চারণ করে যাচ্ছিলো,তখনি ফুলের রঙটা বদলাতে শুরু করে। আবির মুচকি হেসে বলে," দেহ ছেড়ে দিলেও স্বপ্নের জগত থেকে বের হলিনা। কতক্ষণ থাকবি"। বলে আবার আয়াত পড়তে শুরু করে। রোহান নিম গাছের ডাল দিয়ে আঘাত করে যাচ্ছে। আবির নাকে কাচা পোড়া মরিচ ধরে। অনেক্ষণ সহ্য করে থাকলেও,জ্বীনটা আবার রমিজ মিয়ার দেহে আসে। শুরু করে আবারো ধড়ফড়। এখানে মূল বিষয় হচ্ছে,জ্বীন রমিজ মিয়ার দেহ ছেড়ে যদি বেরিয়ে যায়।তবে কাজ সম্পুর্ন হবে। কিন্তু দেহ ছেড়ে যদি আবারো স্বপ্নে গিয়ে লুকায়।তবে কোনো লাভ নেই। রাহুল আরো একটি কাচা ফুল এনে রমিজ মিয়ার বুকে রাখে। আবার শুরু হয় রমিজ মিয়ার ধড়ফড়ানি।
আচমকা টেবিল থেকে মগটা উড়ে এসে আবিরের মাথায় লাগে।সাথে সাথে রক্ত পড়তে শুরু করে আবিরের মাথা দিয়ে। রমিজ মিয়া ঘুমের মধ্যে হেসে যাচ্ছে। কিন্তু আবির তার রুকাইয়া বন্ধ করেনি। রুমে আচমকা একটা বায়ুচাপ সৃষ্টি হয়। পুরো রুমটা যেনো রমিজ মিয়ার সাথে সাথে কম্পন শুরু করেছে।আবির সবার উদ্দেশ্যে বলে," সে তার শেষ চেষ্টা চালাচ্ছে। কেও থামবি না। রুকাইয়া চালিয়ে যা"। রাহুল আরো জোরে জোরে আয়াত পড়তে শুরু করে। রোহান আয়াত উচ্চারণের পাশাপাশি ডাল দিয়ে পিটিয়ে যাচ্ছে। এদিকে জাহাঙ্গীর মিয়া শুয়ে যায় ফ্লোরে।
আবির জাহাঙ্গীর মিয়ার দিকে এক নজর তাকিয়ে দেখলেন,উনি রক্ত বমি করে যাচ্ছে।।আবির তবুও নিজের কাজ বন্ধ করেনি। দেখতে দেখতে রমিজ মিয়ার নাক দিয়ে এইবার রক্ত ঝড়তে শুরু করে। আবির তবুও দোয়া পড়ে যাচ্ছে। মাথা থেকে আবিরের রক্ত ঝরছে।মগের আঘাতে ফেটে গেছে মাথা।সেই রক্ত সোজা পড়ছে রমিজ মিয়ার গায়ে। ঘুমের মধ্যে রমিজ মিয়া রক্তটুকু হাতে নিয়ে,খেয়ে ফেলে।।শরীর কাঁপছে থরথর করে,কিন্তু রক্ত খেয়েও হাসে। তবুও আবির তার রুকাইয়া বন্ধ করেনি।
এইভাবে আরো কিছু সময় যাবার পর আবিরের চোখ থেকে রক্ত ঝড়া শুরু হয়। আবির বুঝতে পারছে,জ্বীনটা আবিরের রক্তচাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। চোখে ঝাপসা দেখতে থাকে আবির। কিন্তু রুকাইয়া বন্ধ করা যাবেনা। রক্তযুক্ত চোখে আবির চোখ বন্ধ করে ফেলে। আর চোখ বন্ধ রেখেই রুকাইয়া চালাতে থাকে। পুরো রুমের আলমারি সহ অন্যান্য ডেকোরেশন কাঁপাকাঁপি করে যাচ্ছে। এইভাবে অনেক্ষন কেটে যাবার পর,রমিজ মিয়া আবার ঠান্ডা হয়ে যায়।
রুমের আসবাবপত্র কাঁপাকাঁপি বন্ধ করে দেয়। আবির চোখ খুলতেই,রমিজ মিয়ার শরীর থেকে একটা কালো ছায়া বেরিয়ে যায়। এবং সর্বোচ্চ স্পিডে সেই কালো ছায়া জানালা দিয়ে বেরিয়ে গেলো। আবির দোয়া পড়তে পড়তে আবার রমিজ মিয়ার কপালে ফুলটা রাখলেন। কিন্তু এইবার নিশ্চিত হয় যে,রমিজ মিয়ার দেহে আর কোনো জ্বীন নেই।
১ বছর ৯ মাস পর.....
- হ্যালো আবির সাহেব। আমার ছেলের জন্মদিন উপলক্ষে এলাকায় মিলাদ পড়াচ্ছি। আমি চাই,আপনি আসুন।
- আবির ওয়াশরুমে গেছে।আমি রিয়াজ বলছি।
- কোন রিয়াজ?
- আবিরের বন্ধু।
- ওও আচ্ছা। আপনি সহ আসুন। সবার দাওয়াত রইলো।
- জ্বী, ইনশাআল্লাহ্‌।
******** সমাপ্ত*********
[ রমিজ মিয়ার জীবনে আর কোনো জ্বীনের আগমন হয়নি। বাচ্চাকে নিয়ে সুখে কাটছে তাদের দিন। তবে ঐ জ্বীনটা বন্দি না। পালিয়ে গেছে। সাবধানে থাকুন। রাস্তাঘাট কিংবা রাতে বাহিরে গেলে দেখেশুনে বের হবেন। আপনার সামনেও হয়তো তারা খাটিয়া নিয়ে এসে বলবে," খাটিয়া ধরুন"। ]
গল্প- #জ্বীনের_খাটিয়া ( পর্ব-০৯ ও শেষ )
লেখক- #রিয়াজ_রাজ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code